CRP Tribunal কী?
নিচে বাংলাদেশে শিশু ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচারের
📌 ১. “Child Rape Prevention Tribunal” কি?
বাংলাদেশে বর্তমানে “Child Rape Prevention Tribunal” নামে নিজস্ব কোনো পৃথক আইনগত ট্রাইবুনাল সিস্টেম আবারো পর্যন্ত স্থায়ীভাবে চালু হয়নি, কিন্তু সরকার শিশু ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচারের জন্য প্রস্তাবিত একটি বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ট্রাইবুনালগুলো মূলত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর (Women and Children Repression Prevention Act-2000) সংশোধনী হিসেবে আইনভুক্ত হবে।
📌 ২. আইনের নাম ও সংশোধন
📌 আইন নাম:
➡️ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (Women and Children Repression Prevention Act, 2000)
📌 সংশোধন:
➡️ ২০২৫ সালে এই আইন সংশোধন করে শিশু ধর্ষণ মামলা দ্রুত এবং বিশেষভাবে বিচার লাভের জন্য ট্রাইবুনাল গঠনের বিধান অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।
এই সংশোধনী অনুমোদন পেলে গেজেট প্রকাশের পর এটি কার্যকর হবে।
📌 ৩. আইনের মূল ধারাগুলি (ধারণা ও সীলমোহর)
🔹 ধর্ষণ ও শাস্তি – ধারা ৯(১)
আইনের ধারা ৯(১) অনুযায়ী—
👉 যদি কেউ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে, তাকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দেওয়া হবে।
- এখানে শিশু বলতে সাধারণত ১৬ বছর বা তার নিচে বয়সের কিশোর/কিশোরীকে বুঝানো হয়ে থাকে।
📌 ৪. বিশেষ ট্রাইবুনাল ও বিচার প্রক্রিয়া
🧑⚖️ বিশেষ ট্রাইবুনাল তৈরির উদ্দেশ্য
সরকার চাইছে—
✔️ শিশু ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচার করতে বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠিত হোক
✔️ বিচার ও তদন্তের সময় কমানো হোক
✔️ জরুরি ক্ষেত্রে ডিএনএ রিপোর্ট ছাড়া মেডিকেল সার্টিফিকেট ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই বিচার কার্যকর করা যাবে
🕐 দ্রুত বিচার সময়
আইনের ২০২৫ সংশোধনীতে মামলার তদন্ত সময় ৩০ দিন থেকে কমিয়ে ১৫ দিন এবং বিচার সময় ১৮০ দিন থেকে ৯০ দিন করার প্রস্তাব থাকছে।
📌 ৫. ধর্ষণের সংজ্ঞা ও কভারেজ
আইনের ধর্ষণের সংজ্ঞা মূলত ব্যাপক—
✔️ সম্মতি ছাড়া যৌন স্পর্শ
✔️ ভয়, জোর, প্রলোভন বা প্রতারণা দিয়ে পরিচালিত যৌন কার্যকলাপ
✔️ শিশুকে যৌনভাবে ব্যবহার করা
✔️ কখনো কখনো কোনও বস্তু দিয়ে বা অন্যান্য রূপে যৌন নির্যাতন
সংশোধনীতে ধর্ষণের সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে যাতে ধর্ষণের বিষয়টি আরো পরিষ্কারভাবে আইনগতভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়।
📌 ৬. বিচারের সময় ও শর্ত
✔️ ডিএনএ রিপোর্ট না থাকলেও বিচার সম্ভব এমন বিধান প্রস্তাবিত হয়েছে, যা দ্রুত বিচারে সহায়তা করবে।
✔️ সম্মতি দেয়ার জন্য বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কোনও শিশু/কিশোরীকে ধর্ষণ করলেও তা পৃথক অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
✔️ বিচার দ্রুত করাতে DNA পরীক্ষা ল্যাব বাড়ানো হবে—ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী শহরে দু’টি নতুন DNA ল্যাব স্থাপন পরিকল্পনা রয়েছে।
📌 ৭. কেন ট্রাইবুনাল জরুরি?
বর্তমানে সাধারণ নারী ও শিশু নির্যাতন আদালত-গুলোতে মামলা অনেক সময় আটকে যায়। এমনকি অনেক মামলা ৫ বছর বা তার বেশি সময় ধরে বিচারকক্ষে পেন্ডিং থাকে।
বিশেষ ট্রাইবুনালগুলো এই বিচারকাজ দ্রুত ও উদ্দেশ্যভিত্তিকভাবে শেষ করবে—কারণ শিশু ধর্ষণ একটি অতি সংবেদনশীল ও গুরুতর অপরাধ।
📌 ৮. বাস্তব উদাহরণ (Magura Child Rape Case)
২০২৫ সালে মাগুরায় ৮ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা করার মামলা Women and Child Repression Prevention Tribunal-তে বিচার হয় এবং আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।
এটি দেখায়—বর্তমান আইনের আওতায় দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি কার্যকর করা হচ্ছে, এবং সংশোধিত আইন ভবিষ্যতে সেই প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে।
📌 ৯. উপসংহার
বাংলাদেশে শিশু ধর্ষণ প্রতিরোধ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এ ২০২৫ সালে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনা হচ্ছে।
এতে—
✅ শিশু ধর্ষণের জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন
✅ দ্রুত তদন্ত ও বিচার
✅ শাস্তি কঠোর করা
✅ ধর্ষণের সংজ্ঞা বিস্তৃত করা
—এইসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এটি শিশুদের আইনি সুরক্ষা, দ্রুত ন্যায়করণের উদ্যোগ ও সমাজে এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে নতুন দিক তৈরি করবে।
Comments
Post a Comment