Posts

হেমন্ত, বৃষ্টি এবং হারানো কৈশোরের গল্প 🌧️🌿

Image
হেমন্ত, বৃষ্টি এবং হারানো কৈশোরের গল্প 🌧️🌿 “কবিতা কখনও নিঃশব্দ নয়; এটি আসে অনুভূতি থেকে, হৃদয়ের গভীর থেকে।” – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হেমন্তের সন্ধ্যা আসে, আর বাতাসে মিশে থাকে এক অদ্ভুত নীরবতা। এই নীরবতায় প্রতিটি পুরুষ তার হারানো কৈশোরের দিকে ফিরে যায়। সেই সময় যখন মনের দরজায় কোনো পাপ বা হীনতার ছায়া প্রবেশ করত না। যেখানে কিশোর মনে শুধুই ছিল স্নিগ্ধ স্বপ্ন, নির্ভীক ভালোবাসা, আর চাঁদকে কুয়াশার আড়ালে তাকিয়ে কল্পনায় হারিয়ে যাওয়ার আনন্দ। এই অনুভূতিকে আমি এক সম্পাদকীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখি—একটি সময়, যখন জীবন নিখুঁত এবং সরল। আমরা বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নানা ব্যস্ততা, দ্বন্দ্ব এবং বাস্তবতার মধ্যে হারিয়ে যাই। কিন্তু সেই হারানো স্মৃতি আমাদের মনে সতেজতা ফিরিয়ে আনে। বৃষ্টির কবিতা ☔ "এই বৃষ্টিতে কবি হওয়ার বাসনা জাগে… সকল ছন্দহীন, রসকসহীন কবিদের।" আমারও সেই বৃষ্টির দিনে সিকোয়েন্সহীন কবিতা লেখার ব্যর্থ চেষ্টা। বৃষ্টি শুধু পানি নয়, এটি আবেগের বন্যা। আমাদের মন যখন খোলা থাকে, তখন প্রতিটি ফোঁটা মনে পৌঁছায়—একটি অদৃশ্য, নীরব কবিতার মতো। সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ: বৃষ্টির সঙ্গে কবি হওয়ার বাসন...

হেমন্তের সন্ধ্যায় হারানো কৈশোরের খোঁজ 🌾🍂

Image
হেমন্তের সন্ধ্যায় হারানো কৈশোরের খোঁজ 🌾🍂 “যে হারানো সময়ের স্মৃতি আমাদের ছুঁয়ে যায়, তা আমাদের অন্তরের সবচেয়ে মূল্যবান দিকগুলোকে উন্মোচন করে।” – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হেমন্তের সন্ধ্যা আসে আর বাতাসে মিশে থাকে এক অদ্ভুত নীরবতা। সেই নীরবতায় প্রতিটি পুরুষের মন ফিরে যায় তার হারানো কৈশোরের দিকে। হেমন্তের সন্ধ্যাকালীন বাতাসে প্রতিটি পুরুষ ফিরে যায় তার হারানো কৈশোরে। যেখানে কিশোর মনে ছিল না পাপ-পঙ্কিলতা, ছিল না কোনো নিষিদ্ধ চিন্তার ছায়া। এটাই সেই সময়, যখন জীবন নিখুঁত এবং সহজ ছিল। কিশোর মনের সরলতায় কোন হীন চিন্তা প্রবেশ করতে পারে না। এই পর্যায়ে স্নিগ্ধ ভালোবাসা ও স্বপ্ন মানুষকে আভ্যন্তরীণ শান্তি দিত। “মানুষের মনে সবথেকে সুন্দর মুহূর্তগুলো আসে তার নিষ্পাপ, সরল জীবনের স্মৃতিতে।” – অ্যান্থনি রবার্টস কুয়াশা ও চাঁদের নীরব আলো 🌙 হেমন্তের সন্ধ্যায় কুয়াশাজড়ানো চাঁদ যেন একরাশ নীরব স্বপ্নের সাগর। কিশোরের চোখে চাঁদ শুধু আলো নয়, এক রূপক, যা তাকে অনন্ত কল্পনায় ভাসিয়ে নিয়ে যায়। সেখানে ছিল স্নিগ্ধ ভালোবাসার স্বপ্ন, কুয়াশা-জড়ানো চাঁদের দিকে তাকিয়ে নীরব কল্পনায় হারিয়ে যাওয়া, আর নির্ঘুম রাত জুড়...

মানুষ এবং সম্পর্কের উইন্ডো: আমার পর্যবেক্ষণ 🌿

Image
মানুষ এবং সম্পর্কের উইন্ডো: আমার পর্যবেক্ষণ 🌿 — তৌহিদ রাসেল  “মানুষকে জানার চেষ্টা করো, কারণ মানুষের প্রকৃতি যেমন সূক্ষ্ম, তেমনি পরিবর্তনশীল।” – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন এক ধরনের লেখা ঘুরে বেড়াচ্ছে—“টক্সিক মানুষ” নিয়ে। অনেকে সেটি শেয়ার করছেন, হয়তো নিজেদের ছাড়া অন্য অনেককেই টক্সিক ভাবছেন। আর কে জানে, হয়তো তাদেরকেও কেউ কেউ একই রকম ভাবছেন। আমার জন্ম এমন একটি পরিবারে, যেখানে ছোট থেকেই মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করা স্বাভাবিক ছিল। আমাদের বংশ বড়, উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার অনেকেই আত্মীয়। পেশাগত কারণে অনেকের সঙ্গে আমাকে চলতে ও কাজ করতে হয়। তাই আমার পরিচয়ের পরিধি অনেক বড়। আমি মানুষের কথাই শোনি না, কেন তারা তা বলছে তাও বোঝার চেষ্টা করি। আমার অভিজ্ঞতায়, মানুষের ব্যক্তিত্ব অনেকগুলো উইন্ডোর মতো। এক একজন মানুষের সঙ্গে এক একটি উইন্ডো। উইন্ডোটি কতটা খোলা থাকবে, কতদিন খোলা থাকবে, তা নির্ভর করে দু’জনের ওপর। চাঁদের আলো মতো মানুষ 🌙 “যে মানুষ নিজের আলো দিয়ে অন্যকে আলোকিত করে, তার সঙ্গে থাকা স্বপ্নকে পূর্ণতা দেয়।” – ইমাম আলি (রাঃ) এমন মানুষদের কাছে থাকা মানে শান্তি, তৃপ্তি, প...

কদমবুসি ও সামাজিক রীতি: শ্রদ্ধা, প্রথা এবং সচেতন যুব সমাজ

Image
কদমবুসি ও সামাজিক রীতি: শ্রদ্ধা, প্রথা এবং সচেতন যুব সমাজ — তৌহিদ রাসেল ক্লাসরুমের আজকের সকালটি ভীষণ শান্ত ছিল। আমি ‘Quasi passive verb + no complement’ বিষয়টি বোঝাচ্ছিলাম। বোর্ডে লিখছি, ছাত্ররা মনোযোগ দিয়ে বসে আছে। হঠাৎ, দু’জন এসএসসি পরীক্ষার্থী দৌড়ে এসে দরজায় দাঁড়াল। চোখে ভয়ের মিশ্রণ, আর মুখে আশা। তারা এক মুহূর্তে আমার কাছে এসে দাঁড়াল, তারপর পা ধরে সালাম করতে শুরু করল। ক্লাসের অন্যান্য ছাত্ররা চুপচাপ দেখছিল। আমি সামান্য সরে গিয়ে বললাম, “থাক, থাক, সালাম করতে হবে না। যাও, ভালোভাবে পরীক্ষা দাও।” ছোটবেলা থেকে আমরা এই দৃশ্যের সঙ্গে পরিচিত। ঈদের সময় এটি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। ছোটরা বড়দের পা ধরে সালাম করে, আর বড়রা বিনিময়ে কিছুটা বকশিশ বা আশীর্বাদ দেয়। বিয়ে বাড়িতেও দেখা যায়—নতুন বউ তার শাশুড়ি বা পরিবারের সিনিয়রদের পা ধরে সালাম করছে। কদমবুসির পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি অনেকে এই রীতিকে পক্ষে বা বিপক্ষে আলোচনা করে। পক্ষে যুক্তি: এটি বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর একটি সুন্দর উপায়। সম্মান প্রদর্শন দোষের কিছু নয়, বরং এটি সওয়াবের কাজ। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “যে বড়দের সম্মান করে না এবং ছোটদের স্ন...

CRP Tribunal কী?

  নিচে বাংলাদেশে শিশু ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচারের 📌 ১. “Child Rape Prevention Tribunal” কি? বাংলাদেশে বর্তমানে “Child Rape Prevention Tribunal” নামে নিজস্ব কোনো পৃথক আইনগত ট্রাইবুনাল সিস্টেম আবারো পর্যন্ত স্থায়ীভাবে চালু হয়নি , কিন্তু সরকার শিশু ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচারের জন্য প্রস্তাবিত একটি বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ট্রাইবুনালগুলো মূলত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ -এর (Women and Children Repression Prevention Act-2000) সংশোধনী হিসেবে আইনভুক্ত হবে। 📌 ২. আইনের নাম ও সংশোধন 📌 আইন নাম: ➡️ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (Women and Children Repression Prevention Act, 2000) 📌 সংশোধন: ➡️ ২০২৫ সালে এই আইন সংশোধন করে শিশু ধর্ষণ মামলা দ্রুত এবং বিশেষভাবে বিচার লাভের জন্য ট্রাইবুনাল গঠনের বিধান অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এই সংশোধনী অনুমোদন পেলে গেজেট প্রকাশের পর এটি কার্যকর হবে। 📌 ৩. আইনের মূল ধারাগুলি (ধারণা ও সীলমোহর) 🔹 ধর্ষণ ও শাস্তি – ধারা ৯(১) আইনের ধারা ৯(১) অনুযায়ী— 👉 যদি কেউ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে, তাকে মৃত্যু...

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল (ICT): ইতিহাস, কার্যক্রম ও বাস্তবতা

  বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল (ICT): ইতিহাস, কার্যক্রম ও বাস্তবতা ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ একটি গৌরবময় অধ্যায়। কিন্তু এই যুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, ধর্ষণ ও লুটপাটের মতো ভয়াবহ অপরাধগুলোর বিচার দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ ছিল। স্বাধীনতার পরপরই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে আলোচনা হলেও নানা রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় সেই বিচার কার্যকরভাবে এগোয়নি। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল (International Crimes Tribunal – ICT) গঠন করে, যার লক্ষ্য ছিল ১৯৭১ সালে সংঘটিত গুরুতর অপরাধগুলোর বিচার নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল কী? আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল (ICT) বাংলাদেশের একটি বিশেষ আদালত, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের বিচার করার জন্য গঠিত। মূল তথ্য পূর্ণ নাম: International Crimes Tribunal (Bangladesh) সংক্ষেপ: ICT আইন: International Crimes (Tribunals) Act, 1973 কার্যক্রম শুরু: ২০১০ সাল প্রকৃতি: বিশেষ ট্রাইবুনাল (সাধারণ আদালত নয়) এই ট্রাইবুনালের এখতিয়ার শুধু ১৯৭১ সালের মুক্...

রাইট অফ লোন কী? কেন করা হয়? গ্রাহকের উপর এর প্রভাব – বিস্তারিত আলোচনা

Image
  🏦 রাইট অফ লোন কী? কেন করা হয়? গ্রাহকের উপর এর প্রভাব – বিস্তারিত আলোচনা ✦ ভূমিকা ব্যাংকিং খাতে প্রায়ই একটি শব্দ শোনা যায় — “রাইট অফ লোন” (Loan Write-Off) । অনেক গ্রাহক মনে করেন, রাইট অফ মানেই বুঝি ঋণ মাফ হয়ে গেছে। বাস্তবে বিষয়টি ঠিক তেমন নয়। এই লেখায় আমরা সহজ ভাষায় জানবো — রাইট অফ লোন কী কেন ব্যাংক লোন রাইট অফ করে রাইট অফ হলে গ্রাহকের দায় শেষ হয় কি না বাস্তব উদাহরণ ✦ রাইট অফ লোন কী? রাইট অফ লোন হলো একটি হিসাব-নিকাশ বা অ্যাকাউন্টিং প্রক্রিয়া , যার মাধ্যমে ব্যাংক এমন একটি ঋণকে তাদের ব্যালেন্স শিট থেকে সম্পদ (Asset) হিসেবে বাদ দেয় , কারণ ব্যাংক মনে করে ওই ঋণটি আদায় হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম বা প্রায় অসম্ভব । সহজভাবে বললে — 👉 অনেকদিন ধরে যে ঋণের টাকা আদায় হচ্ছে না, সেটিকে ব্যাংক হিসাবের খাতা থেকে “খারাপ ঋণ” হিসেবে বাদ দেয়। 👉 কিন্তু এতে ঋণটি মাফ হয়ে যায় না। ✦ কেন ব্যাংক লোন রাইট অফ করে? ব্যাংক সাধারণত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণে ঋণ রাইট অফ করে থাকে — ১️⃣ ব্যালেন্স শিট পরিষ্কার রাখার জন্য যেসব ঋণ দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী থাকে (Non-Performing Loan / NPL), সেগুলো ব্যাংকে...