Posts

চাল দাঙ্গা

Image
জাপানের মেইজি শাসনের আগে ছিল শোগুন শাসন বা শোগুনতন্ত্র। শোগুন ইয়োনারির আমলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর দাম বাড়তে থাকে। বিশেষ করে চালের মূল্য বৃদ্ধি এবং ঊর্ধ্বগতি হতে থাকে। এসময় জাপানের সামন্ততান্ত্রিক অর্থনীতি ভাংতে শুরু করে এবং দুর্ভিক্ষ ও মহামারি জটিল আকার ধারণ করে। এ অবস্থায় চালের অভাব দেখা দেয় এবং চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। এ মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তোলে। কারণ চাল ছিল জাপানিদের অতিপ্রয়োজনীয় খাদ্য। শোগুন ইয়োনারির আমলে চালের মূল্য বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে মজুতদারদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দাঙ্গা দেখা দেয়। জাপানের ইতিহাসে এই দাঙ্গা 'চাল দাঙ্গা' নামে পরিচিত।

ইউসুফ জুলেখার প্রেম সত্য নাকি মিথ্যা? - তৌহিদ রাসেল

Image
যখন হাই স্কুলে পড়ি তখন আড্ডা দেওয়ার সময় আমার একবন্ধু একটা কথা বলেছিল- 'প্রেম ভালবাসা সব ধর্মে আছে। খ্রিষ্টান ধর্মে আছে রোমিও জুলিয়েট, হিন্দু ধর্মে রাধা কৃষ্ণ, ইসলাম ধর্মে ইউসুফ জুলেখা'। আমিও তাই বিশ্বাস করে বসেছিলাম। কারণ তখন ধর্ম আর প্রেম ভালবাসা নিয়ে তো তেমন জানা ছিল না। বয়ঃসন্ধিকাল বয়স তাই প্রেমের হাওয়া জাগরণে, স্বপ্নে এবং কল্পনায় এসে ছুঁয়ে যেত। ইমদাদুল হক মিলনের মত কত লেখকের উপন্যাস যে তখন পড়া হতো তার কোনো ইয়ত্তা নেই। ইসলাম ধর্মে প্রেমের দৃষ্টান্ত হিসেবে ইউসুফ জুলেখার কথাই বিশ্বাস করতাম। কেননা, তখন একটা গান প্রায় শোনা যেত- 'কৃষ্ণ পক্ষ কালো পক্ষ'। সেই গানের লিরিক্সের একটা লাইন ছিল- 'প্রেম কইরাছেন ইউসুফ নবী, তার প্রেমে জুলেখা বিবিগো'। এই রকম আরেকটা গান তো এখনও পোলাপানের মুখেমুখে শোনা যায়- 'প্রেমের মরা জলে ডুবে না'। আস্তে আস্তে এসব প্রেম ভালবাসার জট গুলি খুলতে শুরু করলো। কুরআনের তাফসির পড়ার পর এগুলো খোলাসা হলো। রোমিও জুলিয়েট এবং  রাধা কৃষ্ণ দের প্রেমের উদাহরণের সাথে কোনোভাবেই ইউসুফ জুলেখার ব্যাপারটা যায় না। আরো খোলাসা করে বলতে হলে সংক্ষিপ্তভাব...

লোহা রহস্য

Image
রিফাত অনেকক্ষণ যাবত দাড়িয়ে আছে কিন্তু রাস্তায় কোনো খালি রিক্সার দেখা পাচ্ছে না। যেসব রিক্সা আসছে এবং যাচ্ছে সবগুলাতেই প্যাসেঞ্জার ভর্তি। এইদিকে রিফাত নিজের উপরে নিজেই রাগ হলো। ফজরের পর ঘুমানোর বদ অভ্যাসের কারনেই উঠতে দেরি হয়ে যাওয়াতে এখন হেটে গেলে ক্লাস নেওয়ার জাস্ট টাইমের চেয়ে লেট হয়ে যাবে। আর অন্যের কোচিং সেন্টারে ক্লাস নিলে টাইম মেইন্টেইন না করলে তার পরিবর্তে অন্য টিচার নিবে না তার নিশ্চয়তাও নেই। কারন, রিফাতের আগে যে সাইন্সের ক্লাস নিতো সে মাঝে মাঝে কামাই দিতো বলেই তার পরিবর্তে রিফাতকে নেওয়া হয়েছে। এখন রিক্সার জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। ফজরের পর ঘুমানোর বদ অভ্যাস আগে রিফাতের ছিল না। ভার্সিতে ভর্তি হওয়ার পর মেসে এসে এই বদ অভ্যাস তৈরি হইছে। - মামা ইউরেনাস কোচিং সেন্টারে যাবেন? - হ যামু, উঠেন। তবে ভাড়া ২০ টাকা দিয়েন। - মামা ঐখানে ভাড়া তো ২৫ টাকা। - হ মামা ২৫ টাকা।  কিন্তু আমার রিক্সা প্যাডেলে চলে বলে কেউ উঠতে চায় না। তাই ৫ টাকা কম নেই যেন প্যাসেঞ্জার ধরতে পারি। - ও আচ্ছা। কতদূর যাইতেই রিক্সাওয়ালা মুরব্বী লোকটি হাপিয়ে যাচ্ছে।  আর রিক্সার গতিও কমে যাচ্ছে। এইদিকে...

নালন্দা এবং বখতিয়ার বিতর্ক - তৌহিদ রাসেল

Image
চর্যাপদে পড়েছিলাম 'আপনা মাংসে হরিণা বৈরি'। এর তর্জমা ছিল নিজের মাংসের কারণেই হরিণের শত্রু তৈরি হয়। ঐটার অর্থ ছিল রূপক। বাস্তবিক অর্থ ধরতে গেলে বলতে হবে 'ধন-সম্পদ, জ্ঞান-গরিমা, রূপ-সৌন্দর্যের কারণে মানুষের শত্রু তৈরি হয়'। পত্রিকার পাতা খুললেই দেখা যায় ব্যবসায়ী খুন, বুদ্ধিজীবী-রাজনীতিবিদ গুম এবং নারীরা ধর্ষণের শিকার। চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম প্রাচীন নিদর্শন হলেও তা পাওয়া গিয়েছিল নেপালে। প্রশ্ন থাকতে পারে যে বাংলা ভাষার নিদর্শন নেপালে কেন পাওয়া গেল? নেপালে চর্যাপদ গেল কিভাবে? সবার জেনে রাখা উচিৎ চর্যাপদ ছিল বৌদ্ধ সহজিয়া কবিদের লিখা একধরণের গান বা কবিতা। প্রাচীন আমলে বঙ্গ অঞ্চলে ক্ষমতায় সবচেয়ে বেশি সময় ধরে ছিল 'পাল বংশ'। পালরা ছিল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। তাদের আমলেই এই চর্যাপদ লিখা হয়। পালদের ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতায় আসে সেন বংশ। সেনরা ছিল হিন্দু ধর্মাবলম্বী। তারা বৌদ্ধদের উপর প্রচুর পরিমানে নির্যাতন চালায়। তখন অনেক বৌদ্ধ বঙ্গ থেকে অন্য অঞ্চলে চলে যায়। বৌদ্ধ সহজিয়াদের একটি অংশ যায় নেপালে। চর্যাপদ বিশারদগণ বলেছে- 'তারা সাথে করে চর্যাপদের পাণ্ডুলিপি নেপালে...

বিভিন্ন ধর্মে নারীর পর্দা- তৌহিদ রাসেল

Image
বিভিন্ন ধর্মে নারীর পর্দা তৌহিদ রাসেল আমি যে শহরে থাকি সেই শহরের সুপরিচিত   একটি কোচিং সেন্টারের অফিসে বসে আছি। আমার পরিচিত এক ভাই এই কোচিং-এর পরিচালক। নতুন ব্যাচ শুরু হয়েছে তাই তিনি ক্লাসে গিয়েছেন উদ্বোধনী ক্লাসে কিছু বক্তব্য রাখতে। আমাকে এখানে প্রায় আসতে হয় কিছু দায়িত্ব পালনের জন্য। অফিসের একটি ছেলে আমাকে এক কাপ কফি দিয়ে বললো 'ভাইয়া আপনি বসেন, স্যার ১০/১২ মিনিটের ভিতর বক্তব্য শেষ করে দিবে'। ভাবলাম আয়েশ করে টাইম নিয়ে কফি টা খেয়ে নেই। ১০/১২ মিনিটের জায়গায় ২০ মিনিটের বেশি সময় চলে গেল। কফি খাওয়া শেষ সেই কখন, কিন্তু ভাইয়ের আসার নাম গন্ধ নেই। সিনিয়র মানুষদের এই এক সমস্যা, যদি একবার বক্তব্য শুরু করে শেষ করার হিসাব থাকে না। অনেকক্ষণ বক্তব্য দেওয়ার পর বলবে 'আর একটি কথা না বললেই নয়' এই বলে আবারও আরেক টপিকে নিয়ে নতুন করে বক্তব্য শুরু করে দিবে। আর এই দিকে ছাত্রছাত্রীরা কিছুক্ষণ পরে মুচড়ামুচড়ি শুরু করে দেয় আর হাই তুলতে থাকে। আর এইদিকে আমি বক্তব্য না শুনেই বিরক্ত হচ্ছি। আমারও মুচড়ামুচড়ি শুরু হয়ে গেছে, হাই তুলতেও ইচ্ছা করতেছে। যাইহোক, যখন বিরক্তিবোধ হচ্ছিলাম ঠিক তখনই একটি মেয়ে অফি...